উত্তরা থেকে আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন গ্রেফতার, হত্যা মামলাসহ নানাবিধ অভিযোগে তল্লাশি

রাজধানীর উত্তরায় গোপন তথ্য পেয়ে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম বিতর্কিত নেতা শাহীনকে আটক করা হয়েছে

উত্তরা থেকে আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন গ্রেফতার, হত্যা মামলাসহ নানাবিধ অভিযোগে তল্লাশি

উত্তরা থেকে আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন গ্রেফতার, হত্যা মামলাসহ নানাবিধ অভিযোগে তল্লাশি


প্রকাশিত সংবাদের তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, রোববার রাতে রাজধানীর উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের একটি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রসিন গ্রুপের কর্ণধার এস এম শাহীনুজ্জামান শাহীনকে আটক বা গ্রেফতার করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। তিনি ২০২৪ সালের বিতর্কিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন, যদিও তিনি পরাজিত হন।  

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, গোপন সংবাদ এবং বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের কার্যালয়ে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আড়ালে এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সুযোগ নিয়ে একাধিক অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠছিল তাঁর বিরুদ্ধে। বিশেষ করে বিগত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে নিষিদ্ধ ও স্থগিত হওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রম গোপনে বজায় রাখা এবং অর্থ যোগানের বিষয়ে বেশ কিছু প্রাথমিক প্রমাণ পুলিশের হাতে আসে। সেই সূত্রে নিশ্চিত তথ্য পেয়ে পুলিশ রোববার রাতে তাঁকে ঘিরে ফেলে এবং অফিসে তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে আটক করে হেফাজতে নেয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত শাহীনের বিরুদ্ধে গুরুতর বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে। প্রথমত, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বাইরে থেকে বা আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের জন্য তহবিল সংস্থান করা এবং গোপন বৈঠক আয়োজনের অভিযোগ রয়েছে তাঁর ওপর। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় সংগঠিত নানা গোপন কার্যক্রম ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার পেছনে তাঁর ইন্ধন ছিল বলে আইনশৃঙ্খলা সংস্থা মনে করছে।

দ্বিতীয়ত, রসিন গ্রুপের ব্যাবসায়িক কাঠামোর সুযোগ নিয়ে বিদেশে বিশেষ করে রাশিয়ায় অবৈধভাবে মানব পাচারের বিশাল একটি চক্র পরিচালনা করার অভিযোগ জমা পড়েছে গোয়েন্দা সংস্থার টেবিলে। ভুক্তভোগী সাধারণ তরুণদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে এবং ভুয়া কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল অর্থের বিনিময়ে বিদেশে পাঠাত এই চক্রটি।

তৃতীয়ত, বিভিন্ন সময়ে উত্তরা ও জামালপুর এলাকায় প্রভাব বিস্তার করা, সাধারণ মানুষের সম্পদ দখল ও হত্যা মামলার সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়ে পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। তাঁকে থানা হেফাজতে রেখে বিভিন্ন মামলার তথ্য ও নথিপত্র মেলাচ্ছে পুলিশ এবং আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডের আবেদন জানানো হচ্ছে যাতে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে।

এস এম শাহীনুজ্জামান শাহীন জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে দলীয় টিকিট না পেয়ে তিনি জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসন থেকে স্বতন্ত্র হিসেবে কাঁচি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। হাইকোর্টে রিট আবেদনের মাধ্যমে প্রার্থিতা নিশ্চিত করলেও তিনি ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে পারেননি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী মাঠে মূল প্রার্থীর বিজয় সহজ করতে তাঁর মতো ব্যক্তিদের মাধ্যমে একটি কৃত্রিম প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরির কৌশল নেওয়া হয়েছিল। সরকারের পতন ঘটলেও তিনি দেশ না ছেড়ে গোপনে ঢাকায় অবস্থান করে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছিলেন।

উত্তরা পশ্চিম থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, এস এম শাহীনুজ্জামান শাহীনের বিরুদ্ধে আগে থেকে আসা এবং সাম্প্রতিক সময়ে ওঠা প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা মেনে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। রাজধানীতে কোনো ধরনের অপরাধী বা বিশৃঙ্খলাকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে পুলিশের তরফ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি জারি করা হয়েছে।