আবেদন না করেও কলেজের ভর্তির চিঠি পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা, বদলে যাচ্ছে আমেরিকার উচ্চশিক্ষা

আবেদন না করেও শিক্ষার্থীদের ভর্তির প্রস্তাব পাঠাচ্ছে শত শত কলেজ, কমে যাওয়া আবেদনকারীর কারণে বদলাচ্ছে আমেরিকার ভর্তি ব্যবস্থা দ্রুত

আবেদন না করেও কলেজের ভর্তির চিঠি পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা, বদলে যাচ্ছে আমেরিকার উচ্চশিক্ষা

আবেদন না করেও কলেজের ভর্তির চিঠি পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা, বদলে যাচ্ছে আমেরিকার উচ্চশিক্ষা


যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী পাওয়ার প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। দেশটির শত শত কলেজ এমন শিক্ষার্থীদের কাছেও ভর্তির চিঠি পাঠাচ্ছে, যারা সংশ্লিষ্ট কলেজে সরাসরি আবেদনই করেনি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় অনেক কলেজ সরাসরি ভর্তি বা সরাসরি ভর্তির প্রস্তাব দেওয়ার পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে কলেজের পক্ষ থেকেই ভর্তির সুযোগ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কলেজ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীসংখ্যা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। জন্মহার কমে যাওয়া, উচ্চশিক্ষার ব্যয়, শিক্ষার্থীদের পেশাগত প্রশিক্ষণের দিকে ঝোঁক এবং কলেজের ঋণ নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থী পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।

আগে সাধারণত একজন শিক্ষার্থী বিভিন্ন কলেজে আবেদন করতেন। কলেজগুলো আবেদন যাচাই করে ভর্তি বা অপেক্ষমাণ তালিকার সিদ্ধান্ত দিত। এখন কিছু প্রতিষ্ঠান উল্টোভাবে সম্ভাব্য শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে তাদের সরাসরি ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে।

এই পদ্ধতির অন্যতম সুবিধা হলো আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হওয়া। কোনো শিক্ষার্থী হয়তো কোনো নির্দিষ্ট কলেজের কথা ভাবেননি, কিন্তু সরাসরি ভর্তির প্রস্তাব পাওয়ার পর সেই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আগ্রহী হতে পারেন।

তবে এর সঙ্গে কিছু প্রশ্নও রয়েছে। শিক্ষার্থীরা যদি সরাসরি আবেদন না করেই ভর্তির প্রস্তাব পান, তাহলে কলেজটি তাদের কোন তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন করছে—এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উচ্চবিদ্যালয়ের ফলাফল, পরীক্ষার ফল, জনসংখ্যাগত তথ্য বা অন্য কোনো তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খরচ। কোনো কলেজ ভর্তির প্রস্তাব দিলেই সেটি শিক্ষার্থীর জন্য আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, আবাসন, খাবার, বই, পরিবহন এবং অন্যান্য বাধ্যতামূলক খরচ হিসাব করতে হবে।

বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে কলেজের মোট ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বছরে এক লাখ ডলারের কাছাকাছি বা তারও বেশি মোট খরচ হতে পারে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ফলে সরাসরি ভর্তি প্রস্তাব পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শুধু “ভর্তি হয়ে গেলাম” ভাবা নয়, বরং আর্থিক সহায়তা, বৃত্তি এবং স্নাতক হওয়ার পর সম্ভাব্য ঋণের পরিমাণ যাচাই করা।

এই পরিবর্তন উচ্চশিক্ষার বাজারের একটি বড় কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিতে পারে। আগে যেখানে শিক্ষার্থীদের কলেজের কাছে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে প্রতিযোগিতা করতে হতো, সেখানে কিছু কলেজ এখন শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে নিজেরাই বেশি সক্রিয় হচ্ছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব কলেজ একই অবস্থায় নেই। শীর্ষস্থানীয় ও অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরিস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে আলাদা। সরাসরি ভর্তি পদ্ধতি মূলত শিক্ষার্থীসংখ্যা ধরে রাখতে বেশি চাপের মধ্যে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কার্যকর হতে পারে।