স্কুলের অদৃশ্য তথ্য হঠাৎ গায়েব, ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে উঠল অধিকার নিয়ে প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল জরিপ থেকে লিঙ্গপরিচয় ও সংশ্লিষ্ট হয়রানির তথ্য সরিয়ে দেওয়ায় শিক্ষার্থী অধিকার এবং সরকারি তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক।

স্কুলের অদৃশ্য তথ্য হঠাৎ গায়েব, ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে উঠল অধিকার নিয়ে প্রশ্ন

স্কুলের অদৃশ্য তথ্য হঠাৎ গায়েব, ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে উঠল অধিকার নিয়ে প্রশ্ন


যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা দপ্তরের বিদ্যালয়ভিত্তিক নাগরিক অধিকার জরিপের নতুন তথ্য প্রকাশের পর দেশটিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে প্রকাশিত ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের তথ্যের বেশ কিছু অংশে লিঙ্গপরিচয়, অপ্রচলিত লিঙ্গপরিচয়ের শিক্ষার্থী এবং লিঙ্গপরিচয়ভিত্তিক হয়রানি সংক্রান্ত তথ্য আর আগের মতো প্রকাশ করা হয়নি।

এপি জানিয়েছে, দেশটির ১৩ হাজারের বেশি বিদ্যালয় জেলার কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৮০০ বিদ্যালয় জেলা অপ্রচলিত লিঙ্গপরিচয় ও সংশ্লিষ্ট তথ্য জমা দিয়েছিল।

কিন্তু নতুন প্রকাশনায় লিঙ্গপরিচয় সম্পর্কিত তথ্যের জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে যে নির্বাহী আদেশ মেনে তথ্যটি গোপন রাখা হয়েছে। একইভাবে লিঙ্গপরিচয়ভিত্তিক হয়রানি বা নিপীড়নের অভিযোগ এবং বিদ্যালয়গুলোর এ বিষয়ে লিখিত নীতিমালা সম্পর্কিত তথ্যও প্রকাশ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। 

এই তথ্যগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা বোঝার জন্য ব্যবহার করা হয়। কোন ধরনের শিক্ষার্থী বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছে, কোন বিদ্যালয়ে সমস্যা বেশি এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিচ্ছে—এসব বিশ্লেষণে সরকারি তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সমালোচকদের বক্তব্য, তথ্য বাদ দেওয়ার ফলে গবেষক ও নীতিনির্ধারকেরা শিক্ষার্থীদের একটি অংশের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে আগের মতো পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাবেন না।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত অবস্থান হলো, সরকারি ব্যবস্থায় লিঙ্গের সংজ্ঞা পুরুষ ও নারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে। নতুন তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রেও প্রশাসনের এই নীতির প্রভাব দেখা যাচ্ছে। শিক্ষা দপ্তরের নাগরিক অধিকার জরিপ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ

শিক্ষা-তথ্যভাণ্ডার। এতে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা, হয়রানি, শারীরিক শাস্তি, উন্নত শিক্ষাক্রমে সুযোগ এবং বিভিন্ন শিক্ষার্থী গোষ্ঠীর বিদ্যালয়-অভিজ্ঞতার তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

এবারের প্রকাশনায় শুধু তথ্য বাদ যাওয়াই নয়, প্রকাশের ধরন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এপি জানিয়েছে, আগের মতো বড় কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন ছাড়াই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এমনকি শিক্ষা দপ্তরের ওয়েবসাইটে নতুন তথ্য প্রকাশের বিষয়টি প্রথমদিকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। 

গবেষকদের আশঙ্কা, তথ্যের ধারাবাহিকতা নষ্ট হলে কয়েক বছরের মধ্যে বিদ্যালয়গুলোর পরিবর্তন তুলনা করাও কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে কোনো বিদ্যালয়ে হয়রানি কমছে না বাড়ছে—তা বোঝার ক্ষেত্রে পুরোনো ও নতুন তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য প্রয়োজন।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে শিক্ষা অধিকারকর্মী, গবেষক এবং প্রশাসনের মধ্যে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে। তবে বর্তমানে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরিবর্তনটি মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের লিঙ্গনীতি ও সংশ্লিষ্ট নির্বাহী আদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত।