শিক্ষিকার মেসেজে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট, কুবি শিক্ষার্থীর সনদ আটকে দেওয়ার অভিযোগ
শিক্ষিকার মেসেজে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়াকে অশোভন আচরণ বলায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সনদ আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে
প্রকাশিতঃ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৪৭ এএম
শিক্ষিকার মেসেজে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট, কুবি শিক্ষার্থীর সনদ আটকে দেওয়ার অভিযোগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষার্থীর সনদপত্র আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শিক্ষকের একটি মেসেজে শিক্ষার্থীর দেওয়া ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট। ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের এমবিএ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর দাবি, ইন্টার্নশিপের ফলাফল নিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদানের একপর্যায়ে তিনি শিক্ষকের দেওয়া একটি মেসেজে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেন। পরে ওই প্রতিক্রিয়াকে অশোভন ও অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ইন্টার্নশিপের ফলাফল প্রকাশের পর। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপে উত্তীর্ণ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি বার্তা পাঠান। সেখানে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে শিক্ষককে ধন্যবাদ জানান এবং তাঁকে মনে রাখবেন বলেও উল্লেখ করেন। এরপর শিক্ষক ওই বার্তার জবাব দিলে শিক্ষার্থী সেই মেসেজে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেন। বিভাগ ওই প্রতিক্রিয়াকে শিক্ষকের প্রতি অসম্মানজনক ও শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এ ঘটনায় গত ২৫ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ রেজিস্ট্রার দপ্তরে জমা দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের মাধ্যমে বিভাগীয় পর্যায়ে আসে এবং পরে বিষয়টি একাডেমিক সভায় আলোচনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়।
অভিযোগপত্রে শুধু ‘হা হা’ রিঅ্যাক্টের বিষয়ই নয়, শিক্ষার্থীর ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম নিয়েও কিছু অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি ইন্টার্নশিপ প্রতিবেদনের কাজ নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষদিকে জমা দেন এবং ইন্টার্নশিপ কার্যক্রমে যথেষ্ট মনোযোগ ও আন্তরিকতা দেখাননি। তবে প্রচলিত মূল্যায়ন পদ্ধতি ও প্রতিবেদনের মান বিবেচনায় তাঁকে নম্বর দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তাঁর বক্তব্য, ইন্টার্নশিপে শিক্ষক কী নম্বর দিয়েছেন, তা নিয়ে তাঁর কোনো অভিযোগ নেই। তাঁর প্রশ্ন, একটি মেসেজে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়ার কারণে তাঁর সনদপত্র কেন আটকে থাকবে।
শিক্ষার্থীর দাবি, তিনি সনদ নিতে বিভাগে গেলে তাঁকে জানানো হয় যে তাঁর বিরুদ্ধে রেজিস্ট্রার দপ্তরে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সনদ দেওয়া হবে না বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার দপ্তরে জানিয়েছেন। এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগ জানানোর পর প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিষয়েই তিনি অপেক্ষা করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরীর বক্তব্যও এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানিয়েছেন, সাধারণভাবে এভাবে সার্টিফিকেট আটকে রাখা যায় না; তবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সাময়িকভাবে সনদ উত্তোলন স্থগিত রাখা হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার জানিয়েছেন, তাঁরা এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি উপ-উপাচার্যের কাছে পাঠানো হবে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আচরণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ডিজিটাল যোগাযোগ এবং একাডেমিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়াকে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাজনিত অভিযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং এর প্রভাব শিক্ষার্থীর একাডেমিক নথি বা সনদ উত্তোলনের ওপর কতটা পড়তে পারে—সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ঘটনাটিকে শিক্ষার্থীর সনদ স্থায়ীভাবে বাতিল বা কেড়ে নেওয়া হয়েছে—এভাবে বলা ঠিক হবে না। বর্তমানে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর সনদ উত্তোলন নিয়ে সাময়িক জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিবেচনায় রয়েছে।